icon
Article Details

এডসেন্স এডস লিমিট কি? এডসেন্স এডস লিমিট কেন হয় এবং এড লিমিট সমাধান কি? (বিস্তারিত জানুন)

img by Tarek
14 Nov, 2023

আপনারা যারা ব্লগিং করে এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করছেন। এখন এডসেন্স এর পক্ষ থেকে অবশ্যই আপনাদের কাছে এডসেন্স এড লিমিট একটি পরিচিত শব্দ। সাধারণত ওয়েবসাইটের যখন অ্যাড লিমিট হয়। তখন আপনার ওয়েবসাইটে আর এড/ বিজ্ঞাপন দেখানো হয় না।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানিয়ে দেবো এডসেন্স অ্যাড লিমিট কি? এডসেন্স এডস লিমিট কেন হয় এবং অ্যাড লিমিট হলে সমাধান কি সে বিষয়ে। তাই আপনারা যারা গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে ইনকাম করছেন এবং অ্যাড লিমিটেড সমস্যায় পড়েছেন। তাদেরকে অবশ্যই আজকের এই আর্টিকেলটি বিস্তারিত ভাবে জানতে হবে। 

যারা এখনো এড লিমিট সমস্যায় পড়ে নেই তাদেরকেও এই বিষয়ে অবগত থাকতে হবে। আপনি যদি এডসেন্সের এই নীতিমালা গুলো অনুসরণ করে চলতে পারেন। তাহলে কখনোই আপনার এডসেন্স এড লিমিট হবে না। 

তাই আসুন জেনে নেওয়া যাক। গুগল এডসেন্স এড লিমিট কেন হয় আর এড লিমিট হলে এর সমাধান কি? এই বিষয়ে বিস্তারিত।

এডসেন্স এডস লিমিট কি ?

আপনাদের সহজ ভাষায় বলতে চাইলে এডসেন্স অ্যাড লিমিট হল- এডসেন্স ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন না দেখানো এবং কম কম দেখানো কে অ্যাড লিমিট বলা হয়। এডসেন্স এড লিমিট এর বাংলা শব্দের রূপান্তরিত করলে বলা হয় বিজ্ঞাপন সীমা। মানে ওয়েবসাইটে অল্প আকারে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে এড লিমিট।

আপনাদের ওয়েবসাইটে যদি কখনো এডসেন্স এড লিমিট হয়ে যায়। তখন আপনাকে এডসেন্স থেকে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। এবং এডসেন্স ড্যাসবোর্ডে অ্যাড লিমিট নোটিশ টানিয়ে দেয়া হবে। আপনারা এক লিমিটেড মেইল হিসেবে পাবেন- “Ads limit placed on your site.” এরকম মেইল। 

আপনারা অবশ্যই মনে রাখবেন গুগল এডসেন্স এড লিমিট হলে, আপনার ওয়েবসাইটে কোন বিজ্ঞাপন দেখাবে না। এছাড়া আপনি যদি বিজ্ঞাপনের নিজে নিজে নাও ক্লিক করেন তারপরও অনেক সময় অ্যাড লিমিট দিতে পারে। আবার যদিও আপনার ওয়েবসাইটে অল্প বিজ্ঞাপন দেখায় তাহলেও টাকা ইনকাম হবে না। 

কারণ অ্যাড লিমিট অবস্থায় কিছু বিজ্ঞাপন দেখানো হলে সেখানে যদি ভিজিটর ক্লিক করে, সে ক্লিক গুলো কেউ ইনভেলিড ক্লিক হিসেবে গণ্য করা হবে। তাই আপনার অ্যাড লিমিট অবস্থায় কোন ইনকাম হবে না। 

আশা করি আপনারা বুঝতে পারলেন adsens ads limite কি? 

এডসেন্স এডস লিমিট কেনো হয়?

এখন কথা হল এডসেন্স এডস লিমিট কেন হয় ? তার কারণ গুগল এডসেন্স সব সময় এথিক্যাল কাজগুলোকে পছন্দ করে থাকে। তার জন্য যারা অসাধু উপায় ব্যবহার করে, গুগল এডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করার ইচ্ছা পোষণ করে তাদেরকে শাস্তি হিসেবে এক লিমিট প্রদান করা হয়। 

এছাড়া গুগল এডসেন্স এড লিমিট হওয়ার প্রধান কারণ গুলো হচ্ছে- ব্লক কিংবা ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন গুলোতে ইনভেলিড ক্লিক পড়ার কারণ। ইনভেলিড ক্লিক কিভাবে হয় এবং কিভাবে এড লিমিট হয়ে যায় সেটা আমি আপনাকে বুঝিয়ে বলছি। 

অ্যাডসেন্স এন্ড লিমিট হওয়ার কারণ গুলো-

  • ইনভেলিড ক্লিক করার কারণ
  • নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে নিজে ক্লিক করার কারণ
  • ভিজিটরদের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে বাধ্য করার কারণ
  • ট্রাফিক এক্সচেঞ্জ কিংবা ট্রাফিক বট করে সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসার কারণ
  • সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম থেকে বেশি বেশি ভিজিটর নিয়ে আসার কারণ
  • এড সঠিকভাবে প্লেসমেন্ট না করার কারণ

বন্ধুরা মূলত এই কারণগুলোর জন্যই অ্যাড সাইন্স এন্ড লিমিট হয়। তো চলুন এই অ্যাড লিমিট হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে আরো বিস্তারিতভাবে জেনে নেই। 

ইনভ্যালিড ক্লিক

বর্তমান সময় যারা ব্লগিং করে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করছেন তাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে ইনভিলিড ক্লিক কি? মূলত ভুলভাবে বিজ্ঞাপন ক্লিক করলে সিটিআর বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। আর যখন হঠাৎ করে সিটিআর বৃদ্ধি পেয়ে যাবে তখন এডসেন্স এড লিমিট করে দেবে। 

নিজে নিজে বিজ্ঞাপন দেখা

আপনারা অবশ্যই মনে রাখবেন, এডসেন্স হয়ে ১০% এর বেশি চিটার হয়ে গেলে এডসেন্স এড লিমিট হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। 

অনেকের রয়েছে যারা নিজের বিজ্ঞাপন নিজে নিজে ক্লিক করে ইনকাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে এটি একদমই এডসেন্সের নীতির বাইরে। যা আপনার পরবর্তীতে বিপদ হতে পারে। 

আপনারা মনে রাখবেন যে, নিজের এডসেন্স বিজ্ঞাপনে নিজে নিজে ক্লিক করলে অবশ্যই অ্যাড লিমিট করে দেবে।

বিশেষ করে আইপি এড্রেস থেকে বারবার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেও অ্যাড লিমিট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই গুগলের সাথে দুর্নীতি করে ইনকাম করার চেষ্টা করবেন না। 

ভিজিটরকে বিজ্ঞাপন দেখতে বাধ্য করা

অনেক ব্লগার রয়েছে যারা চালাকি করে এমনভাবে কনটেন্ট পাবলিশ করেন। যে কন্টেন্ট গুলো দেখতে গেলে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হয় বাধ্যতামূলক।

মূলত সত্যি বলতে এটা ভিজিটরদের কাছে অনেক বিরক্তিকর এবং এডসেন্স এর কাছে অনৈতিক। 

আবার অনেক ব্লগার রয়েছে যারা এডসেন্সের বিজ্ঞাপন লিংক সরাসরি দিয়ে থাকেন যাতে করে ভিজিটর ক্লিক করলে আপনার ইনকাম হয়।

আপনার যদি এমনটা করে থাকেন, তাহলে মনে রাখবেন। আপনার এডস লিমিট হওয়া থেকে শুরু হয়ে ডিজেবল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। 

হঠাৎ করে এডস ক্লিকের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া

এডসেন্সে হঠাৎ যদি বিজ্ঞাপন ক্লিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় তবে এড লিমিট হবে। ধরুন প্রতিদিন আপনার সেন্স একাউন্টে পাঁচটি করে ক্লিক হয় তবে হঠাৎ একদিন একশো ক্লিক হয়ে গেল তখন গুগল অ্যাডসেন্স এটিকে স্প্যাম হিসেবে ধরবে যার ফলে এন্ড লিমিট করে দিবে। 

ট্রাফিক বট করে সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসা

এমন অনেক ব্লগার রয়েছে যারা নিজের এক নিজে নিজে ক্লিক না করে, ট্রাফিক বট করে সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসতে থাকেন। 

তবে এরকম ট্রাফিক বট গুলো একই আইপি থেকে জেনারেট হওয়ার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটর গুলোকে স্প্যাম এবং ক্লিক গুলোকে স্প্যাম হিসেবে গণ্য করে। 

যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটে ভাড়া করে নিয়ে আসা ভিজিটর ক্লিক করার পরে, অ্যাড লিমিট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশি বেশি ভিজিটর নিয়ে আসা

বর্তমানে অনেক নতুন ব্লগার রয়েছে। যারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে বড় বড় পেজ তৈরি করে, সেখানে ওয়েবসাইটের আর্টিকেল লিংক শেয়ার করে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর নিয়ে আসেন।

তবে এটি কিন্তু অনেক বড় ভুল। কারণ আপনার ওয়েবসাইটে যদি গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ভিজিটর না আসে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো থেকে ভিজিটর আসতে থাকে। তাহলে অ্যাড লিমিটেড সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। 

এডস সঠিক ভাবে প্লেসমেন্ট না করা

অনেক ব্লগার রয়েছে যারা স্টেজ থেকে বেশি ইনকাম করার আশায়, অধিক পরিমাণের বিজ্ঞাপন ওয়েবসাইট পোস্টে যুক্ত করে দেন। যার ফলে ভিজিটরদের কন্টেন্ট করতে এবং বুঝতে অসুবিধা হয়।

এছাড়া অনেক সময় আমরা সঠিক জায়গায় বিজ্ঞাপন বসাতে পারি না। ভুল জায়গায় বিজ্ঞাপন বসিয়ে রাখার ফলে, এডসেন্স এড লিমিট করে দেয়। 

এডসেন্স এড লিমিট হলে সমাধান কি ?

আপনার ওয়েবসাইট যদি এডসেন্স থাকে এড লিমিট করে দেয়। তবে সেটির জন্য কোন আপিল বা ফিডব্যাক দেওয়ার সুযোগ আর এডসেন্স প্রদান করে না। মূলত এডসেন্স অ্যাড লিমিট হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এরপর নিজে নিজে অ্যাড লিমিট সরে যায়। 

অনেক সময় দেখা যায় এডসেন্স এড লিমিট দেওয়ার সময় হয় এক মাসের জন্য, আবার কারো কারো এক মাস পরে নিজে নিজে অটোমেটিক উঠে যায়। অ্যাড লিমিট আসলে অবশ্যই মনে রাখতে হবে অ্যাড লিমিট হয় এমন কাজ কখনো করা যাবে না। 

এছাড়া এডসেন্স এড লিমিট ছাড়ানোর জন্য অবশ্যই ওয়েবসাইটে বেশি বেশি অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসতে হবে। 

এড লিমিট থেকে বাঁচার উপায় ও সমাধান 

এডসেন্স এন্ড লিমিট থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে এথিক্যাল উপায়ে আগাতে হবে। কখনো কোন সময় নিজের বিজ্ঞাপনে নিজে নিজে ক্লিক করা যাবে না। এছাড়া একই আইপি থেকে বারবার ক্লিক করা যাবে না। 

সকল প্রকার ইনভেলিড ক্লিক থেকে ওয়েবসাইটকে প্রটেক্ট রাখতে হবে। তার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে cdm হিসেবে ক্লাউড ফেয়ার ব্যবহার করতে হবে নিশ্চয়ই। তার কারণ এই ক্লাউড-ফেয়ার সিডিএম আপনাদের ওয়েবসাইটে সকল প্রকার ইনভেলিড ক্লিক এবং বট ট্রাফিকের বিরুদ্ধে প্রটেকশন করবে সব সময়।

আর যারা নতুন ব্লগার রয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি। আপনার যখন নতুন এডসেন্স পাবেন। তখন প্রতিটি পোস্টে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন না বসিয়ে সর্বোচ্চ তিনটি বিজ্ঞাপন বসানোর চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে আপনি যখন ১০০০ থেকে ১৫০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখবেন তখন সে আর্টিকেলে তিন থেকে চারটি বিজ্ঞাপন যুক্ত করবেন। 

যার ফলে আপনার এডসেন্স এড লিমিট হওয়ার কখনোই কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। আশা করি আপনারা বুঝতে পারলেন এডসেন্স এড লিমিট হলে করণীয় কি। 

শেষ কথাঃ

আমরা আজকের এই আর্টিকেলে এডসেন্স এড লিমিট কি? এবং এডসেন্স এড লিমিট কেন হয় এর সমাধান কি? সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। এখন আপনি যদি একজন নতুন ব্লগার হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনি যদি আমাদের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তাহলে কখনোই গুগল এডসেন্স এড লিমিট কিংবা ডিজেবল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। 

আর যাদের ইতোমধ্যে এডসেন্স এড লিমিট হয়েছে, তারা নিজে নিজে ক্লিক এবং ইনভ্যালিড ক্লিক বন্ধ করার চেষ্টা করুন। এবং ভালোভাবে এট প্লেসমেন্ট করুন তাহলেই এডসেন্স এড লিমিট ঠিক হয়ে যাবে। 

আমাদের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে করার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভকামনা। 

Related News

View All

To Write Your Thoughts Please Log in First

Login
Home
Task
My Team
Latest News
User Guide